সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৬

বিশ্বের বিভিন্নস্থানে ২৫ জন নবীর মাজারের ছবি:




হজরত আবু জর গিফারি (রা.) প্রিয় নবী (সা.) কে প্রশ্ন করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! পয়গম্বরদের সংখ্যা কত? তিনি জবাব দিলেন, ১ লাখ ২৪ হাজার। তাদের মধ্যে ৩১৫ জন হচ্ছেন রাসূল। (আহমদ ও শরহে মাকাসিদ)।
তবে আল কোরআনে যেসব পয়গম্বরের নাম উল্লেখ হয়েছে, তাদের সংখ্যা মাত্র ২৫ জন। তাদের কারও কারও আলোচনা বিভিন্ন সূরায় একাধিক জাগায় স্থান পেয়েছে। আবার কারও কারও নামে সূরার নামকরণ করা হয়েছে। এর সংখ্যা মাত্র ৫টি। কোরআনুল কারিম যেহেতু হেদায়েতের বাণী ও উপদেশগ্রন্থ, তাই অতীতকালের জাতি ও সম্প্রদায়ের ঘটনাবলি, তাদের ভালো-মন্দ আমল ও তার পরিণতি বর্ণনার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ধারা বর্ণনাপদ্ধতি অবলম্বন করা হয়নি। বরং সত্য প্রচারের লক্ষ্যে দাওয়াত প্রদানের মুখ্যতম পন্থাই গ্রহণ করা হয়েছে। যাতে প্রাচীনকালের সম্প্রদায় ও তাদের প্রতি প্রেরিত পয়গম্বরদের আলোচনা বারবার শ্রবণ করার ফলে শ্রোতাদের অন্তরে দৃঢ়ভাবে গেঁথে যেতে পারে এবং তা শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে বেশ উপযোগীও বটে। কোরআনে বর্ণিত ২৫ জন নবীর নাম হলো-

১. হজরত আদম (আ.), মোট ৯টি সূরায় ২৫ জায়গায় তার নাম উল্লেখ হয়েছে। 
২. হজরত ইদ্রিস (আ.), দুটি সূরায় দু’বার উল্লেখ হয়েছে। 
৩. হজরত নুহ (আ.), ২৮টি সূরায় ৪৩ বার উল্লেখিত হয়েছে। 
৪. হজরত হুদ (আ.), তিনটি সূরায় সাতবার উল্লিখিত হয়েছে। 
৫. হজরত সালেহ (আ.), চারটি সূরায় ৯ স্থানে উল্লেখ হয়েছে। 
৬. হজরত ইবরাহিম (আ.), ২৫ সূরায় ৬৯ বার উল্লেখ হয়েছে। 
৭. হজরত লুত (আ.), চৌদ্দটি সূরায় ২৭ বার উল্লেখ হয়েছে। 
৮. হজরত ইসমাঈল (আ.), আট সূরায় ১২ জাগায় উল্লেখ হয়েছে। 
৯. হজরত ইসহাক (আ.), ১২ সূরায় ১৭ বার আলোচিত হয়েছে। 
১০. হজরত ইয়াকুব (আ.), ১০টি সূরায় ১৬ বার আলোচিত হয়েছে। 
১১. হজরত ইউসুফ (আ.)। তিনটি সূরায় ২৭ বার উল্লেখ হয়েছে। 
১২. হজরত শুয়াইব (আ.), চার সূরায় ১১ বার উলি্লখিত হয়েছে। 
১৩. হজরত আইয়ুব (আ.), চারটি সূরায় চার জাগায় আলোচিত হয়েছে। 
১৪. হজরত যুল কিফল (আ.), দুটি সূরায় দু’বার আলোচিত হয়েছে। 
১৫. হজরত মুসা (আ.), ৩৪টি সূরায় ১৩৭ বার আলোচিত হয়েছে। 
১৬. হজরত হারুন (আ.), ১৩টি সূরায় ২০ বার আলোচিত হয়েছে। 
১৭. হজরত দাউদ (আ.), ৯টি সূরায় ১৬ বার উল্লেখ হয়েছে। 
১৮. হজরত সুলাইমান (আ.), সাতটি সূরায় ১৭ বার উল্লেখ হয়েছে। 
১৯. হজরত ইলিয়াস (আ.), দুটি সূরায় তিনবার উলি্লখিত হয়েছে। 
২০. হজরত ইয়াসা (আ.), দুটি সূরায় দু’বার উল্লেখ হয়েছে। 
২১. হজরত ইউনুস (আ.), দুটি সূরায় দু’বার উল্লেখ হয়েছে। 
২২. হজরত জাকারিয়া (আ.), চারটি সূরায় সাতবার উল্লেখ হয়েছে। 
২৩. হজরত ইয়াইয়া (আ.), চারটি সূরায় পাঁচবার উল্লেখ হয়েছে। 
২৪. হজরত ঈসা (আ.), ১১টি সূরায় ২৫ বার উল্লেখ হয়েছে। 
২৫. হজরত মুহাম্মাদ (সা.), চারটি সূরায় মাত্র চার জাগায় তাঁর নাম উল্লিখিত হয়েছে। অন্যান্য স্থানে তাঁর গুণবাচক নাম উলি্লখিত হয়েছে। অথবা আইয়ুহান নবী কিংবা আইয়ুহান রাসূল বলে সম্বোধন করা হয়েছে। এটা বিশ্বনবীর সম্মান ও মর্যাদার পরিচয় বহন করে।

বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৬

রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর গোলাম বা পীরের গোলাম বলা কি জায়েজ নাকি শিরিক?


আমাদের সমাজে কিছু মানুষ ওহাবী সালাফীদের কথা শুনে নাচানাচি শুরু করে অথচ তারা কিছু যাচাই বাছাই না করেই একজনকে শিরিক কুফরের অপবাদ দিয়ে দেয় যার পাপ উল্টা তার কাধে পরে।
অনেকেই প্রশ্ন করে,
রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর গোলাম বা পীরের গোলাম বলা কি জায়েজ নাকি শিরিক?

উত্তরঃ

গোলাম ( غلام ) শব্দের আরবী প্রতিশব্দ হল, خادم (সেবক), عامل (কর্মচারী) প্রভৃতি। অতএব রাসূলের গোলাম বা পীরের গোলাম বা খাদেম, কর্মচারী, সেবক বলাতে কোন আপত্তি নেই। যেমন, 

♦ মুসলিম শরীফের ২য় খন্ডের كتاب الالفاظ من الادب -এ বর্ণিত হয়েছে যেঃ-

لايقولن احدكم عبدي وامتي كلكم عبيد الله وكل نساءكم اماء الله ولكن ليقل غلامي وجاريتي

অর্থাৎ, নবীজী ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কেউ عبدي (আমার বান্দাহ) বলোনা। তোমরা সবাই আল্লাহ’র বান্দাহ এবং তোমাদের সকল মহিলারা আল্লাহ’র বান্দী। কিন্তু আমার গোলাম আমার চাকরানী বলতে পার।
★ সহিহ মুসলিম, আধ্যায় : ৪১ : শব্দচয়ণ ও শব্দ প্রয়োগে শিষ্টাচার : ৫৬৮১। 

ইফাঃ অনুবাদ থেকেঃ

♦ মুহাম্মদ ইবনু রাফি (রহঃ) হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এ হল সে সব হাদীস, যা আবূ হুরায়রা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদের কাছে রিওয়ায়াত করেছেন। একথা বলে তিনি কয়েকখানি হাদীস উল্লেখ করেছেন। (সে সবের একখানি হল) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেনঃ তোমাদের কেউ (মনিব সমন্ধে এভাবে) বলবে না যে, তোমার রব্বকে পান করাও, তোমার রব্বকে খাবার দাও, তোমার রব্বকে উযু করাও। তিনি আরও বলেনঃ 

"তোমাদের কেউ (নিজেও) বলেছেনঃ আমার রব্ব বরং বলবে আমার সায়্যিদ- সরদার বা নেতা, আমার মাওলা-মনিব। আর তোমাদের কেউ বলবে না, আমার বান্দা আমার বাঁদী, বরং বলবে, আমার সেবক আমার সেবিকা।"
(ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক অনুদিত)
★ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), আধ্যায় : ৪১ : শব্দচয়ণ ও শব্দ প্রয়োগে শিষ্টাচার : ৫৬৮১।
— 
ব্যাখ্যাঃ
এখানে সরাসরি গোলাম শব্দটিই ব্যবহার হয়েছে এবং তা ব্যবহারের বৈধতাও দেয়া হয়েছে। সুতরাং কেউ যদি নিজেকে খাদেম বা চাকর বা কর্মচারী অর্থে পীরের গোলাম বলে তা অবশ্যই জায়িয।

প্রসংগত, হাদীস শরীফে عبدي (আমার বান্দাহ) বলতে নিষেধ করা হয়েছে। কাজেই শরয়ী পরিভাষায় ইবাদাতকারী হিসেবে কেউ তার গোলামকে বা কর্মচারীকে বা খাদেমকে কিংবা কোন মুরীদ নিজেকে পীরের عبد (আবদ তথা বান্দাহ) বলতে পারবে না। কেননা ইবাদতের একমাত্র মালিক আল্লাহ পাকই; এতে সন্দেহ নেই। অন্য যে কাউকেই হোক না কেন, ইবাদাত পাওয়ার যোগ্য বা ইলাহ মনে করলে শিরক হবে; তবে এ অর্থ ছাড়া গোলাম অর্থে যদি عبد (বান্দাহ) শব্দটি কেউ তার কর্মচারী বা খাদেমকে বলে কিংবা কোন মুরীদ নিজেকে গোলাম অর্থে পীরের عبد (বান্দাহ) বলে এতে সমস্যা নেই।

♦ আল্লাহ বলেন-

قل ياعبادي الذين اسرفوا علي انفسهم لاتقنطوا من رحمة الله

অর্থাৎ, হে নবী! আপনি তাদের কে সম্বোধন করুন, হে আমার বান্দাহগণ, তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ, আল্লাহ’র অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না।
এ আয়াতেقل ياعبادي (হে আমার বান্দাগণ) এর দু’টি অর্থ প্রকাশ পায়।

এক, আল্লাহ বলেন- ওহে আমার বান্দাহগণ;
অথবা
দুই, হুযুর পাককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, হে নবী আপনি বলুন, হে আমার (অর্থাৎ, আপনার) বান্দাহগণ। এ দ্বিতীয় অর্থে রাসূলুল্লাহ’র বান্দাহ বুঝানো হয়েছে, অর্থাৎ নবীজীর গোলাম এবং উম্মত।

অনেক বুযুর্গানে দ্বীন দ্বিতীয় অর্থটি গ্রহণ করেছেন। 

♦ আল্লামা রুমী মসনবী শরীফে বলেছেন -

بندہ خود خواند احمد در رشاد * جملہ عالم را بخوان قل یا عباد

অর্থাৎ, সমগ্র জগতবাসীকে হুযুর স্বীয় বান্দাহ বলেছেন। 

কুরআন শরীফে দেখুন قل ياعبادي বলা হয়েছে।

♦ ইযালাতুল খফা গ্রন্থে শাহ ওলী উল্লাহ সাহেব রাহিমাহুল্লাহ আর রিয়াযুন নফরা ইত্যাদি কিতাবের উদৃতি দিয়ে বলেছেন যে, 
হযরত উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতে গিয়ে বলেছিলেন-

قد كنت مع رسول الله صلي الله عليه وسلم فكنت عبده وخادمه

অর্থাৎ,আমি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তখন আমি তাঁর বান্দাহ ও খাদেম ছিলাম।
অতএব, প্রমাণিত হল যে, عبد (বান্দাহ) শব্দটি গোলাম অর্থে আল্লাহকে ছাড়াও ব্যবহার করা যায়।

♦ আল্লাহ পাক সুরা তাহরীমের 4 নং আয়াতে সুস্পষ্টভাবে 'মাওলা' শব্দটি নিজেই অন্যদের জন্য ব্যবহার করেছেন।
যেমন,আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন...
↓
অবশ্যই মহান আল্লাহ তাঁর [প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা'র] 'মাওলা'।হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালামও তাঁর 'মাওলা' এবং নেককার ঈমানদারগণও তাঁর 'মাওলা'।এছাড়া ফিরিশতাগণও তাঁর সাহায্যকারী।
হাদীস শরীফেও রয়েছে,রাসুলুল্লাহ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ওয়া কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু এর ফযিলত বর্ণানা করতে গিয়ে ইরশাদ করেছেন,আমি যার 'মাওলা' আলীও তার 'মাওলা'।



বুধবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৬

মাযারে সিজদা করা কি শিরিক নাকি হারাম? কদম্বুচি কি শিরিক নাকি সুন্নাহঃ


সম্মানার্থে হাতে ও কদমে চুম্বন করা সুন্নাহ এর অন্তর্ভুক্ত কিন্তু সিজদায়ে তাজমী হারাম তথা কবীরা গুনাহ তবে শিরিক নয়ঃ

Written by (Masum Billah Sunny)

এ সম্পর্কে বহু হাদিস আছে। এক কথায় বলা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে হিজরি ১৪শ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ আ'লা হযরত ইমাম আহাম্মদ রেজা খান বেরলভী (রহঃ) এর লিখিত সিজদায়ে তাজিমী বইটাতে অসাধারণ লিখেছেন অগনিত হাদিসের রেফারেন্স সহ সমস্ত সুত্র সনদসহ বর্ননা করেছেন। 
Download this book →

♦ আলা হজরত শাহ আহমেদ রেযা খান বেরলভি (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) বিরচিত "হুরমতে সিজদায় তাজিম" পুস্তকখানির বাংলায় "তাজিমি সিজদাহ" নামকরণ করে প্রকাশ করা হয়েছে।
http://www.mediafire.com/?33dake3ttuq7kro

তাই এ ব্যাপারে ওনার আকিদাই আমাদের আকিদাঃ
↓



সিজদা ২ প্রকারঃ
1) সিজদায়ে ইবাদতী
2) সিজদায়ে তাজিমী



  • SIZDAYE IBADATI ©©




® তোমরা আল্লাহর জন্য সিজদা কর এবং তাঁরই ইবাদত কর। [সাজদাহ] আন-নাজম, ৫৩/৬২

® নিশ্চয় যারা (অর্থাৎ ফেরেশতা) তোমার রবের নিকট আছে তারা তাঁর ইবাদাতের ব্যাপারে অহঙ্কার করে না এবং তারা তাঁরই গুণগান ও মহিমা প্রকাশ করে এবং তাঁরই সম্মুখে সাজদাহবনত হয়। [সাজদাহ] আল-আরাফ, ৭/২০৬  

® আর আসমানসমূহ ও যমীনে যে প্রাণী আছে আর ফেরেশতারা আল্লাহর প্রতি সাজদাহবনত হয় আর তারা অহঙ্কার করে না। আল-নাহল, ১৬/৪৯ 

® তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করে যা কিছু রয়েছে আসমানসমূহে এবং যা কিছু রয়েছে যমীনে, সূর্য, চন্দ্র, তারকারাজী, পর্বতমালা, বৃক্ষলতা, জীবজন্তু ও মানুষের মধ্যে অনেকে? আবার অনেকের উপর শাস্তি অবধারিত হয়ে আছে, আল্লাহ যাকে অপমানিত করেন তার সম্মানদাতা কেউ নেই, নিশ্চয় আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করেন। [সাজদাহ] আল-হাজ্জ, ২২/১৮   

® আর আসমানসমূহ ও যমীনের যা কিছু আছে ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় আল্লাহর প্রতি সাজদাহবনত হয় এবং তাদের ছায়াগুলিও। [সাজদাহ] আর-রাদ, ১৩/১৫ 

® আর তারকা ও বৃক্ষ উভয়ে (আল্লাহকে) সাজদাহ করে। আর-রাহমান, ৫৫/৬  

® কেবল যারা আমার আয়াতসমূহ বিশ্বাস করে, তাদেরকে এর দ্বারা উপদেশ দেয়া হলে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের রবের প্রশংসার সহিত তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর আর তারা অহঙ্কার করে না। [সাজদাহ] আস- সাজদাহ, ৩২/১৫




  • SIZDAYE TAZIMI ©© এই সিজদা গুলো মুলত সম্মানার্থে হয়েছিল তাও আল্লাহর ইশারায় বা হুকুমে তাই একে সিজদায়ে ইবাদতী বললে তারা সালাফীরা সংগে সংগে শিরক ও কুফরে লিপ্ত হবে।




তার প্রমান আল-কুরআন থেকেই দিব কারণ যদি সিজদায়ে তাজিমী ছিল বলে না মানা হয় তবে নবীগন ও ফেরেশতাগনের উপর শিরিকের অপবাদ দেয়া হবে।


সূরা ত্বোয়া-হা 70 :-

فَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سُجَّدًا قَالُوا آمَنَّا بِرَبِّ هَارُونَ وَمُوسَى
70
অতঃপর যাদুকররা সেজদায় পড়ে গেল। তারা বললঃ আমরা হারুন ও মূসার পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম।

সূরা ত্বোয়া -হা 116 :-

وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَى
116
যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ তোমরা আদমকে সেজদা কর, তখন ইবলীস ব্যতীত সবাই সেজদা করল। সে অমান্য করল।

সূরা হিজর: 29 - অতঃপর (আদম আ. কে)
 যখন
 ঠিকঠাক করে নেব এবং তাতে আমার রূহ থেকে ফুক দেব, তখন তোমরা তার সামনে সেজদায় পড়ে যেয়ো।



সূরা হিজর: 30 - তখন ফেরেশতারা সবাই মিলে সেজদা করল।

সূরা হিজর: 31 - কিন্তু ইবলীস-সে সেজদাকারীদের অন্তর্ভূক্ত হতে স্বীকৃত হল না।

সূরা বনী ইসরাঈল: 61 - স্মরণ কর, যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ আদমকে সেজদা কর, তখন ইবলীস ব্যতীত সবাই সেজদায় পড়ে গেল। কিন্তু সে বললঃ আমি কি এমন ব্যক্তিকে সেজদা করব, যাকে আপনি মাটির দ্বারা সৃষ্টি করেছেন?

সূরা ত্বোয়া-হা: 116 - যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ তোমরা আদমকে সেজদা কর, তখন ইবলীস ব্যতীত সবাই সেজদা করল। সে অমান্য করল।

সূরা কাহফ:50 - যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ আদমকে সেজদা কর, তখন সবাই সেজদা করল ইবলীস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল। অতএব তোমরা কি আমার পরিবর্তে তাকে এবং তার বংশধরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু। এটা জালেমদের জন্যে খুবই নিকৃষ্ট বদল।

সূরা আল আ’রাফ:11 - আর আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, এরপর আকার-অবয়ব, তৈরী করেছি। অতঃপর আমি ফেরেশতাদেরকে বলছি-আদমকে সেজদা কর তখন সবাই সেজদা করেছে, কিন্তু ইবলীস সে সেজদাকারীদের অন্তর্ভূক্ত ছিল না।

সূরা আল আ’রাফ:12 - আল্লাহ বললেনঃ আমি যখন নির্দেশ দিয়েছি, তখন তোকে কিসে সেজদা করতে বারণ করল? সে বললঃ আমি তার চাইতে শ্রেষ্ট। আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা।

সূরা ছোয়াদ: 75 - আল্লাহ বললেন, হে ইবলীস, আমি স্বহস্তে যাকে সৃষ্টি করেছি, তার সম্মুখে সেজদা করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তুমি অহংকার করলে, না তুমি তার চেয়ে উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন?


★ পবিত্র কুরআনের সূরা ইউসুফে হযরত ইউসুফ (আঃ) তার পিতাকে বল্লেন- 

ذْ قَالَ يُوسُفُ لِأَبِيهِ يَا أَبتِ إِنِّي رَأَيْتُ أَحَدَ عَشَرَ كَوْكَبًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ رَأَيْتُهُمْ لِي سَاجِدِينَ 

যখন ইউসুফ পিতাকে বললঃ পিতা, আমি স্বপ্নে দেখেছি এগারটি নক্ষত্রকে। সুর্যকে এবং চন্দ্রকে। আমি তাদেরকে আমার উদ্দেশে সেজদা করতে দেখেছি। (সূরা ইউসূফ 4) 


★ সূরা ইউসুফের অন্য আয়াত হচ্ছে - 

وَرَفَعَ أَبَوَيْهِ عَلَى الْعَرْشِ وَخَرُّواْ لَهُ سُجَّدًا وَقَالَ يَا أَبَتِ هَـذَا تَأْوِيلُ رُؤْيَايَ مِن قَبْلُ قَدْ جَعَلَهَا رَبِّي حَقًّا وَقَدْ أَحْسَنَ بَي إِذْ أَخْرَجَنِي مِنَ السِّجْنِ وَجَاء بِكُم مِّنَ الْبَدْوِ مِن بَعْدِ أَن نَّزغَ الشَّيْطَانُ بَيْنِي وَبَيْنَ إِخْوَتِي إِنَّ رَبِّي لَطِيفٌ لِّمَا يَشَاء إِنَّهُ هُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ 

এবং তিনি পিতা-মাতাকে সিংহাসনের উপর বসালেন এবং তারা সবাই তাঁর সামনে সেজদাবনত হল। তিনি বললেনঃ পিতা এ হচ্ছে আমার ইতিপূর্বেকার স্বপ্নের বর্ণনা আমার পালনকর্তা একে সত্যে পরিণত করেছেন এবং তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। আমাকে জেল থেকে বের করেছেন এবং আপনাদেরকে গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছেন, শয়তান আমার ও আমার ভাইদের মধ্যে কলহ সৃষ্টি করে দেয়ার পর। আমার পালনকর্তা যা চান, কৌশলে সম্পন্ন করেন। নিশ্চয় তিনি বিজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (সূরা ইউসূফ 100) 


★ সূরা বাকারায় রয়েছেঃ - 

وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلاَئِكَةِاسْجُدُواْ لآدَمَ فَسَجَدُواْ إِلاَّ إِبْلِيسَ أَبَى وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ 

এবং যখন আমি হযরত আদম (আঃ)-কে সেজদা করার জন্য ফেরেশতাগণকে নির্দেশ দিলাম, তখনই ইবলীস ব্যতীত সবাই সিজদা করলো।
সে (নির্দেশ) পালন করতে অস্বীকার করল এবং অহংকার প্রদর্শন করল।
ফলে সে কাফেরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল। (সূরা আল বাক্বারাহ 34) 


★ আল্লাহপাক রাব্বুল আলামীন বলেন -

مَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ

রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা। (সূরা আল হাশর 7)

★ 
Hadith # 1

The Sahaba asked: O Prophet (Peace be upon him) we are more deserving of prostrating to you than the animals. The Prophet (Peace be upon him) replied: It is not allowed for anyone,“IF IT WAS ALLOWED I WOULD HAVE ASKED WOMEN TO PROSTRATE TO THEIR HUSBANDS”

Reference :
★ Sunnan Darimi, Volume No. 1, Page No. 10,
★ Sahih Ibn Hibban (4/335), 
★ Imam al-Mundhri narrated another variant of camel prostrating to Prophet and he declared the chain as “Jayyid (strong) having famous thiqa narrators” (3/35)]

♦ Hadith # 2

কাইস বিন সা'দ (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি ইয়েমেনের "হীরা" নামক এলাকায় গিয়ে দেখতে পেলাম, সে এলাকার লোকেরা নিজ প্রশাসককে সিজদা করে। তখন আমি মনে মনে ভাবলাম, এ জাতীয় সিজদাহ'র উপযুক্ত একমাত্র রাসূলই (আ:) হতে পারে। অন্য কেউ নয়। তাই আমি মদীনায় এসে রাসূল (আ:) কে ঘটনাটি এবং আমার মনের ভাবটুকু জানালে তিনি বললেন: " বলো! 
তুমি আমার ইন্তিকালের পর আমার কবরের পাশ দিয়ে গেলে আমার কবরটিকে সিজদাহ করবে কি? আমি বললাম: না, তিনি বললেন: তাহলে এখনও করোনা। আমি যদি কাউকে কারোর জন্য সিজদাহ করতে আদেশ করতাম তাহলে মহিলাদেরকে নিজ স্বামীদের জন্য সিজদাহ করতে আদেশ করতাম। কারণ, আল্লাহ্‌ তা'আলা পুরুষদেরকে নিজ স্ত্রীদের উপর প্রচুর অধিকার দিয়েছেন "।

 (আবু দাউদ, হাদীস ২১৪০)

♦ Hadith # 3 



হযরত ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল হযরত আনাছ বিন মালিক (রাঃ) থেকে উল্লেখ করেছেন যে - 
আনছারিদের গ্রামে ২টি পাগল উট ছিল ,সেই পাগলা উটের অবস্থা দেখে উটের মালিক দয়াল নবীর (সঃ) দরবারে এল সমাধানের জন্য । তার কথা শুনে আল্লাহর নবী গেলেন দেখতে ,

যখন দয়াল নবী (সঃ)সেখানে পৌঁছলেন একে একে উট দুটি আল্লাহর নবীর কদমে সিজদায় পড়ে গেলেন যা দেখে উপস্থিত সাহাবারা (রাঃ) বলতে লাগলেন ইয়া রাসুলাল্লাহ (সঃ) - জানোয়ার হয়ে এগুলা সিজদা করতে পারলে আমরা কেন করবোনা।
‪‎তখন‬ রাসুল(সঃ) বলেছেন যদি আমি হুকুম দিতাম তাইলে স্ত্রীদের বলতাম তারা যেন তাদের স্বামীদের সিজদা করে ।


(মুসনাদে আহমদ)

‪♦ 
Hadith # 4




হযরত‬ আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর থেকে ইমাম তিরমিজী উল্লেখ করেছেন যে প্রিয় নবী হুযুর পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ ফরমান,
যদি আমি কাউকে কারো প্রতি সিজদা করার নির্দেশ দেয়ার ইচ্ছা পোষন করতাম,তাহলে মহিলাকে নির্দেশ দিতাম নিজের স্বামীকে সিজদা দেয়ার জন্য।

(সুনানে তিরমিযি)


  • ®®® ফতোয়ায়ে আ'লা হযরত (রহঃ) ®®®


★ ইমাম আলা হযরত (রহঃ) বলেছেন -
আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য ইবাদতের উদ্দেশ্য সিজদা করা হলে তা নিশ্চিত ও সর্বসম্মতভাবে ঘৃন্য শিরক ও সুস্পষ্ট কুফর। আর সিজদা-ই তাহিয়্যাহ বা সম্মানার্থে সিজদা নিশ্চিতভাবে হারাম ও গুনাহ-ই কবীরা । 
তিনি তাযীমী সিজদাকে কুফর বলার ক্ষেত্রে মতবিরোধ রয়েছে বলেছেন। 
(আয্ যুবদাতুয্ যাকিয়্যাহ পৃষ্ঠা 7 )
(Fatawa Rizvia,Jild22,Page423)




  • KISSING HANDS & FEET ©©




★ কদম্বুচি জায়েজঃ বিস্তারিত এখানে (click here: http://goo.gl/onPXKs)
↓ নিচে শুধু ১টি হাদিস রেফারেন্স সহ দিলামঃ

عن زارع وكان فى وفد عبد القيس قال لما قدمنا المدينة وجعلنانتبادر من رواحلنا فنقبل يد رسول الله صلى الله عليه وسلم ورجله

অর্থাৎ, হযরত যারেঈ রাদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু যিনি আব্দুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধি দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, আমরা যখন মদিনা মনোওয়ারায় আগমন করলাম তখন আমাদের বাহন হতে তাড়াতাড়ি নেমে পড়লাম এবং রসূল-এ করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র হস্ত মোবারক ও পা মোবারক চুম্বন করলাম।



Reference :

১) ইমাম বুখারী : তারিখুল কবীর : ৪/৪৪৭ পৃ: ১৪৯৩
তিনি বলেন ```হাদিসটি বিশুদ্ধ বা হাসান।```

২) ইমাম বুখারী : আল আদব আল মুফ্রাদাত : ২৩৮ পৃ: ৯৭৫
তিনি বলেন ```হাদিসটি বিশুদ্ধ বা হাসান।```

৩) ইমাম ইবনে শায়বা : আল-মুসান্নাফ : ৮/৫৬২ পৃ:

৪) ইমাম আবু দাউদ : আস সুনান : ৪/৩৫৭ পৃ: অধ্যায়: কিতাবুল আদব
, হাদিস : ৫২২৫

৫) ইমাম তাবারানী (২৬০-৩৬০হি) : মুজমাউল কবীর : ৫/২৭৫ পৃ: হাদিস ৫৩১৩

৬) ইমাম তাবারানী : মুজমাউল আওসাত : ১/১৩৩ পৃ: হাদিস ৪১৮

৭) ইমাম বায়হাকী : আস সুনানে কোবরা : ৭/১০২ পৃ: হাদিস ১৩৩৬৫
তিনি বলেন ```হাদিসটি সহিহ।```

৮) ইমাম বায়হাকী : শুয়াবুল ইমান : ১১/২৯৪ পৃ: হাদিস ৮৫৬০
তিনি বলেন ```হাদিসটি সহিহ।```

৯) ইমাম শায়বানী : আহাদিসুল মাসানী : ৩/৩০৪ পৃ: হাদিস ১৬৮৪
তিনি বলেন ```হাদিসটি হাসান বা বিশুদ্ধ।```

১০) ইবনে হাজর আসকালানী : তালখীসুল হবির : ৪/৯৩ পৃ: হাদিস ১৮৩০
তিনি বলেন ```হাদিসটি সহিহ।```

১১) আসকালানী : আদ-দিরায়্যাত ফি তাখরিজ আহাদিসুল হিদায়াত : ২/২৩২ পৃ: হাদিস ৬৯১
তিনি বলেন ```হাদিসটি সহিহ।```

১২) ইমাম খতিব তিবরিযী : মিশকাত : ৩/১৩২৮ পৃ: হাদিস ৪৬৮৮ (মুসাফা ও মু'আনাকা অধ্যায়)

১৩) ইমাম মিযযী : তাহজীবুল কামাল : ৭/২৬৬ পৃ:
তিনি বলেন ```হাদিসটি সহিহ।```

১৪) ইমাম যায়লাই : নাসীবুর রিয়াদ্ধ : ২/২৩২ পৃ:
তিনি বলেন ```হাদিসটি সহিহ।```

১৫) ইমাম আবি আছিম : আস-সুন্নাহ : হাদিস ১৯০

১৬) শায়খ মুহাদ্দিসে দেহলবী : আশিয়াতুল লুমআত : ৩/৫০৮ পৃ: হাদিস ৪৬৮৮
তিনি বলেন ```হাদিসটি সহিহ।```

১৭) ইমাম মোবারকপুরী : তুহফাতুল আহওয়াজী : ৭/৫৬২ পৃ:
তিনি বলেন ```হাদিসটি সহিহ।```

১৮) ইবনে হাজর আসকালানী : ফতহুল বারী : ৮/৮৫ পৃ:
তিনি বলেন```হাদিসটি সহিহ।```

১৯) ইমাম বায়হাকী : দালায়েলুল নবুওয়াত : ৫/৩২৭ পৃ:
তিনি বলেন ```হাদিসটি সহিহ।```

২০) মোল্লা আলী কারী : মিরকাত শরহে মিশকাত ৭ম খন্ড ৮০ পৃষ্ঠা।
তিনি বলেন ```হাদিসটি সহিহ।```

২১) আলী ইবনে আব্দুল মালিক আল হিন্দী [ওফাত ৯৭৫] : কানজুল উম্মাল।

২২) ইমাম ইবনে জারির আল তাবারী [২২৪-৩১০ হি] : তাফসীরে তাবারী

২৩) বজলুল মাজহুদ ৬ ষ্ঠ খন্ড ৩২৮ পৃষ্ঠা।

২৪) মায়ালিমুস সুনান।

২৫) এলাউস সুনান ১৭ তম খন্ড ৪২৬ পৃষ্ঠা

২৬) At-Tayalisi in his Musnad

২৭) Al-Bazzar in his Musnad (3:278).

২৮) Al-Haithami narrated it.

২৯) Ibn al-Muqri narrated it in his Kitab ar-Rukhsa, p. 80 #20

৩০) Ibn Abd al-Barr declared it Hassan,

৩১) al-Mundhiri confirmed it in Mukhtasar al-Sunan (8:86) and declared it Hasan.

৩২) নাসিরুদ্দিন আলবানী : সহিহুল আবু দাউদ : ৪/৩৫৭ পৃ: হাদিস ৫২২৫
তিনি বলেন ```হাদিসটি হাসান বা বিশুদ্ধ ।```

সৈয়্যদ না হয়েও নিজেদেরকে সৈয়্যদ দাবী করাঃ


হযরত যায়েদ বিন হারেছা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু তথা হারেছের পুত্রকে নবীজি নিজের ছেলে বলেছেন । এটা দেখে লোক সকল তাকে যায়েদ বিন মুহাম্মদ তথা নবীজির সন্তান বলতে লাগল । সাথে সাথে আল্লাহ তাআলা এর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আয়াত নাযিল করেন ।

আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ ফরমান-

وَمَا جَعَلَ أَدْعِيَاءَكُمْ أَبْنَاءَكُمْ ذَٰلِكُمْ قَوْلُكُمْ بِأَفْوَاهِكُمْ

অর্থাৎ, আল্লাহ আপনার পালক পুত্রকে আপনার পুত্র বানায়নি । এটা শুধু আপনার মুখের কথা । [ সূরা আহযাব-৪]

এবং তাকেও নিষেধ করে আল্লাহ বলেন-

ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ ۚ فَإِنْ لَمْ تَعْلَمُوا آبَاءَهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ

অর্থাৎ, তাদেরকে তাদের পিতার নামেই আহবান করো । আল্লাহর নিকট এটাই পছন্দনীয় । যদি তাদের পিতার নাম জানা না থাকে তাহলে ধর্মে তারা তোমাদের ভাই । [সূরা আহযাব-৫]

যেখানে নবীজি স্বয়ং হযরত যায়েদ রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু কে লালন পালন করেছেন, সেখানে তাঁকে পুত্র বলা হারাম করে দিয়েছেন । তাহলে যারা সৈয়্যদ না হয়েও নিজেদেরকে সৈয়্যদ দাবী করে তারা কত বড় অপরাধী তা উক্ত আয়াতের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায় ।

হযরত আলী আহম্মদ সাবের কালিয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি - Hazrat Sheikh Alauddin Ali Ahmed Sabir (رحمتہ اللہ علیہ)

বড়পীর হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী (রহঃ) এর সম্পর্কে পূর্ববর্তী আওলিয়া-ই-কিরামগণ ভবিষ্যতবানী করে গেছেনঃ


আওলাদে রসুল এবং আহ্লে বাইতের অন্তর্ভূক্ত হযরত ইমাম জাফর সাদিক রহমতুল্লাহি আলাইহি (যিনি হযরত ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি) এর পীর সাহেব ছিলেন) তিনি তাঁর কাশফূল গুয়ুব নামক কিতাবে বড়পীর হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর সম্পর্কে একটি ঘটনা বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন ১৪৮ হিজরীর ১১ই রজব জুম্মার রাত্রে আমি যথারীতি কোরআন শরীফ তিলওয়াত ও যিকির আযকার করে ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে দেখতে পাই, আমি আলমে নাসুথ থেকে (পৃথিবী হতে) উর্ধারোহন করে আলমে মালাকুত এবং আলমে মালাকুত থেকে আলমে জাবারুতে গিয়ে পৌঁছলাম। সেখানে এক বিশাল ময়দান দেখতে পেলাম। সেই ময়দানের এক পার্শ্বে মারোয়ারী পাথরের একটা তাবু টাঙানো। 

সেখান থেকে আল্লাহ্র রসুল সাইয়্যিদুল মুরছালীন, ইমামুল মুরছালীন, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম এর বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) আমার কাছে এসে বললেন, “হে ইমাম জাফর সাদিক (রঃ), আল্লাহ্র রসুল হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম আপনাকে ডাকছেন। আমি সাথে সাথে হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট গেলাম। দেখলাম সমস্ত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম ও আওলিয়া ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি গণের পবিত্র রূহ মোবারক সেখানে উপস্থিত আছেন। এবং সমস্ত ফিরিশতা কাতারবন্দী হয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন। একটা খুব সুন্দর আসনের মধ্যে আল্লাহ্র রসুল হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম বসা অবস্থায় আছেন। হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে দেখা মাত্র বসার জন্য ইশারা করলেন। আমি বসলাম। বিছুক্ষনের মধ্যে হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস্ সালাম ও ইমাম হুসাইন আলাইহিস্ সালাম হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম এর পার্শ্বে এসে বসলেন। 

ইত্যবসরে দেখা গেল দু’টি রূহ মোবারক এসে হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম এর ডান জানু মোবারক ও বাম জানু মোবারকে বসলেন। বসার পর হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, “হে ইমাম জাফর সাদেক রহমতুল্লাহি আলাইহি আজ থেকে তিনদিন পর তুমি আমার কাছে চলে আসবে। আমি চাই তুমি আলমে জাবারুতের অবস্থা দর্শন করে তা আলমে নাসূতের মধ্যে লিপিবদ্ধ করে আস। একথা বলার পর হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তুমি কি জান এ রূহ দু’টি কার? 

আমার ডান জানু মোবারকে যার রূহ মোবারক দেখতে পেলে তিনি আমার থেকে পাঁচশত বৎসর পর পৃথিবীতে আগমন করবেন। তিনি হলেন গাউসুল আযম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং আমার বাম জানু মোবারকে যে রূহটি আছেন তিনি হলেন, হযরত আলী আহম্মদ সাবের কালিয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি । আল্লাহ্ পাক তাঁর এ দুই খাস মকবুল বান্দা দ্বারা ইসলামের অনেক খিদমত নিবেন। তারপর পার্শ্বে বসে থাকা অবস্থায় হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম দ্বয়কে বললেন, “তোমাদের শাহাদাতের পর আমি আমার উম্মতের কথা ভেবে চিন্তিত হই। তখন আল্লাহ্ পাক তাঁর এই দুই মাহ্বুব বান্দা দ্বারা আমাকে সুসংবাদ দান করেন। হযরত ইমাম জাফর সাদেক রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি উক্ত স্বপ¦ দেখার পর ঘুম থেকে জেগে উঠলাম এবং সকালে উঠে কাশফুল গুয়ুব কিতাবে তা লিপিবদ্ধ করলাম।” 

এই কাশফুল গয়ুব কিতাব তিনি ইন্তিকালের পূর্বেই লিখেছিলেন এবং সত্যিই তিনি তিনদিন পরেই ইন্তিকাল করেন। সেই দুই মাহবুব বান্দার অন্যতম একজন মাহবুবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি। সুবহানাল্লাহ!

বুধবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৬

ইবনে তাইমিয়্যার মৃত্যুর পর ওহাবী সালাফীরা কি তাহলে শিরিক বিদআত করল?




হাফিয ইবনু কাসীর (ইবনু তাইমিয়্যাহ এর ছাত্র) বেদায়া ওয়ান নেহায়া কিতাবে  একটি ঘটনা উল্লেখ করে বলেন,

ইবনু তাইমিয়্যাহ দিমাশকে ইন্তেকাল করেন।
গোসল দেয়ার পূর্বে একদল লোক মৃতদেহের পাশে বসলেন এবং কোর’আন তেলাওয়াত করলেন।

(উল্লেখ্য, লা-মাযহাবীরা মৃত ব্যক্তির পাশে কোর’আন তেলাওয়াতকে বেদ’আত বলে থাকে )

এবং তারা মৃতদেহ দর্শন করত: মৃতদেহ চুম্বন করে বরকত হাসিল করলেন।
অতঃপর তারা সেখান থেকে চলে গেলেন।
এরপর একদল মহিলা এসে উপস্থিত হলেন। তারাও একইভাবে কোর’আন তেলাওয়াত, দর্শন এবং চুম্বন করে বরকত হাসিল করলেন এবং চলে গেলেন।

( উল্লেখ্য, এগুলো লামাযহাবীদের নিকট চরম বেদ’আত
হাফিয ইবনু কাসীর অনেক আলোচনা করেছেন।
আগ্রহী ব্যক্তি আরবী এবারত পড়ে নেবেন। )

অতঃপর যখন তাঁর জানাযা শেষ হলো, তখন তাঁকে (মাকবারাতুস সুফিয়্যাহ) সুফীদের কবরে নিয়ে যাওয়া হলো এবং তাঁর ভাই শরফুদ্দীন আব্দুল্লাহ এর পাশে দাফন করা হলো।

(উল্লেখ্য, লা-মাযহাবীরা সুফীদেরকে মুশরিক বলে থাকে। তার মানে তাদের কথা মত, তাদের শায়েখুল ইসলামকে মুশরিকদের কবরস্থানে দাফন করা হলো। শায়খুল ইসলামের শেষ ঠিকানা হলো মুশরিকদের কবরস্থানে! )

ইবনু কাসীর বলছেন,
ইবনু তাইমিয়্যাহ এর ইন্তেকাল উপলক্ষে ১৫ হাজার মহিলা এবং প্রায় ২লক্ষ পুরুষ উপস্থিত হয়েছিল। মহিলারা অনেক কান্নাকাটি ও করেছিল।
এরপর ইবনু কাসীর বলেন,
ইবনু তাইমিয়্যাহকে গোসল দেয়ার পর যে পানি অবশিষ্ট ছিল, একদল লোক তা পান করলো। আরেকদল লোক বরই পাতাগুলো ভাগাভাগি করে নিয়ে গেল যা গোসলের পর অবশিষ্ট রয়েছিল।

( অবশ্যই এ কাজ গুলো করা হয়েছিল বরকত হাসিলের নিয়ত করে। আর লা-মাযহাবীরা বলে এটা বেদ’আত, হারাম।  আমাদের কথা হল তারা যদি বিদআত, শিরিক মনে করে তারা কেন এ কাজ নিজেরা করে?)

এরপর ইবনু কাসীর বলছেন,
ইবনু তাইমিয়্যাহর মাথায় উকুন ছিল বিধায় তিনি গলায় তাবিজ ব্যবহার করতেন। 

(খাইছে, লা-মাযহাবীরা বলে থাকে, তাবিজ ঝুলানো স্পষ্ট শিরক। তার মানে তাদের শায়খুল ইসলাম উকুনের ভয়ে ঐ শিরক কাজ তাঁর জীবনে করলেন! উকুনের যদি এতই ভয়, তো আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন, তাবিজ ঝুলাবেন কেন, তাই না? )

ইবনু কাসীর বলছেন, ঐ তাবিজটিকে ১৫০ দিরহামে বিক্রয় করা হলো। আর তাঁর মাথায় ব্যবহৃত টুপিটি ৫০০ দিরহামে বিক্রয় করা হলো।

(অবশ্যই যারা কিনেছিলেন, তারা বরকত হাসিলের জন্য এত দাম দিয়ে এগুলো কিনেছিলেন, তাই নয় কি? কিন্তু ইহাতেওতো বেদ'আত, নয় কি? )
এরপর ইবনু কাসীর বলছেন,
ইবনু তাইমিয়্যাহ এর ইনতেকাল উপলক্ষে অনেক খতম আদায় করা হলো। আর অনেকদিন পর্যন্ত ইবনু তাইমিয়্যাহ এর কবরের পাশে লোকজন দিন রাত (২৪ ঘন্টা) অবস্থান করেছিল। তারা সেখানে ঘুমাতো এবং ভোর করতো। 

(হায় আল্লাহ, এ তো দেখি, রীতিমত উরস আর কবরপূজা। তারমানে, অনেকদিন পর্যন্ত ইবনু তাইমিয়্যাহ এর কবরের পূজা অর্চনা করা হলো, তাও আবার দিন রাত একই সমান্তরাল গতিতে! লাগাও এবার ফতোয়া। )


_____________________________________ 
এ হলো শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ এর ঘটনা, লিখেছেন তারই ছাত্র হাফিয ইবনু কাসীর তাঁর "আল বিদায়াহ ওয়ান নেহায়াহ" নামক কিতাবে। 
_________________________